শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গড়জরিপা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম।
সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি ৬ষ্ঠ। তার বাবা মরহুম আব্দুল জলিল একজন কৃষক এবং মা আনোয়ারা বেগম গৃহিনী। পারিবারিক ভাবে সে মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির সন্তান।
মনোয়ারুল ইসলাম এর আরও ৪ বোন ও ২ ভাই রয়েছেন। বোনদের পড়াশোনা ও বিবাহ এবং ভাইদের পড়াশোনা করাতে তার বাবাকে অনেক জমি বিক্রি করতে হয়েছিলো।
জানা যায়, ২ ভাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন।
ছোট থেকেই মনোয়ারুল ইসলাম অনেক মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার বড় ভাই প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সে যে স্কুলে প্রাইমারী স্কুলে পড়েছে তার বড় ভাই এবং সে প্রাইমারীতে বৃত্তি পেয়েছিলো। ঐ সময় গ্রামের স্কুল থেকে বৃত্তি পাওয়াটা কঠিন বিষয় ছিলো।
মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই এবং পরবর্তীতে যখন আমিও বৃত্তি পায়, তখন বাবা মা আমাদের আলাদাভাবে পড়াশোনাতে মনোযোগ দিতে বেশি বাধ্য করেন। আমাদের পড়াশোনা করাতে বাবা-মা কে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।
মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম, চাউলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়,গড়জরিপা থেকে ১৯৯৯ সালে বৃত্তিসহ পাশ করেন।
ঐতিহ্যবাহী গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.৪৪ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।
এবং ২০০৬ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ -৪.৮০ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ( সিএসই ) ভর্তি হন।
মনোয়ারুল ইসলাম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ২০১৪ সালে ২১ সেপ্টেম্বর শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইন্সট্রাক্টর ( লেকচারার ) কম্পিউটার টেকনোলজিতে প্রায় ৩ বছর চাকরি করেন।
তিনি চাকরির পাশাপাশি বিসিএস সহ অন্যান্য ভালো চাকরির জন্য দিন রাত অনেক পরিশ্রম করেন।
বিসিএস হওয়ার আগেই তিনি কয়েকটি সরকারি চাকরি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ( বিপিএসসি ) কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হোন।
তার মধ্যে এনবিআরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সহকারী প্রোগ্রামার। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সহকারী প্রোগ্রামে হিসেবে ১ বছরের বেশি সময় চাকরি করেন এবং ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে চাকরি হতে অব্যাহতি দেন।
অবশেষে ৩৬ তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে প্রভাষক ( আইসিটি) হিসেবে মেধা তালিকায় ২য় স্থান অর্জন করেন।
ক্যাডারে প্রথম পোস্টিং হিসেবে তিনি নিজ উপজেলায় শ্রীবর্দী সরকারি কলেজে ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে যোগদান করেন।
দীর্ঘ ৩ বছর সেখানে আইসিটি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে ৯ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ এ সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে ডেপুটেশনে যোগদান করেন।
উল্লেখ্য যে, তিনি নবীন বোর্ডে আইটি শাখায় খুবই ক্রান্তিকালে হাল ধরেন।
পারিবারিক জীবনে তার স্ত্রীও এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাদের ২ জন মেয়ে সন্তান রয়েছে।
তার বড় ভাই মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি ডুয়েট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ( সিএসই ) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। পরে এমবিএ করে এক স্বনামধন্য ব্যাংকে আইটি শাখাতে কর্মরত আছেন।
তার ছোট ভাইও একটি হাই স্কুলে চাকরি করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মনোয়ারুল ইসলাম বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সাথে কাজ করেন।