গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার লংগরপাড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি ছোট থেকেই অনেক মেধাবী ছিলেন। অনেক পরিশ্রম করে অবশেষে সফলতা অর্জন করেছেন।
৪৩তম বিসিএস প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। তার বাবা একজন কৃষক ও মা একজন গৃহিণী।
মায়ের বড় সন্তান হিসেবে তিনি শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতেন দেশের কল্যাণে কাজ করার। গ্রামের সরল জীবন, শিক্ষার প্রতি উৎসাহ, এবং কঠোর পরিশ্রমই তাকে এই সাফল্যের পথে নিয়ে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় লংগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ২০১০ সালে পাইকুড়া এ আর পি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও ২০১২ সালে ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।
বাংলাদেশর সনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ থেকে ২০১৮ সালে ডিভিএম এবং ২০১৯ সালে মেডিসিন বিষয়ে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার প্রথম কর্মজীবনে দুইটি উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখায় সাব-ইন্সপেক্টর পদে প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি চাকরির ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। প্রতিদিন ৪–৫ ঘণ্টা করে পড়াশোনা, নিয়মিত রিভিশন, এবং মডেল টেস্ট ছিল তার মূল প্রস্তুতির অংশ।
তিনি অনেক পরিশ্রম করে অবশেষে সফলতা পূর্নতা পায়।
বর্তমানে তিনি একই ক্যাডারে কর্মরত এবং দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এর বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় আজ সফলতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রাম থেকে উঠে এসে বিসিএস ক্যাডার হওয়া সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। পরিবার যদি পাশে থাকে আর মনোযোগ ধরে রাখা যায়, তবে লক্ষ্য একদিন ঠিকই পূরণ হয়।”
তিনি ভবিষ্যৎ প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন—“পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন, আত্মবিশ্বাস হারাবেন না, এবং ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিন। বিসিএস শুধু জ্ঞান নয়, মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
জানা যায়, কামরুজ্জামান বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সাথে কাজ করেন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন।