আগামী এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে সীমান্তবর্তী শেরপুর ২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন। আসনটিতে ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি জামায়াতসহ একাধিক রাজনৈতিক দল।
মনোনয়ন ঘোষণার পরও বিএনপিতে রয়ে গেছে গ্রুপিং রাজনীতি। ভিন্নভাবে পালিত হচ্ছে দলীয় নানা কর্মসূচি। বিএনপির অনেক আগেই দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করে এককভাবে মাঠে দৌড়াচ্ছে জামায়াত। ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গন অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দলগুলোও নিজেদের ব্যালটে সিল বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, শেরপুর দুই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৮ জন। নানা বিবেচনায় বিএনপির সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকোশলী ফাহিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন। তবে মনোনয়ন বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে এখনো একাগ্রতার কোন ঘোষণা আসেনি।
মনোনয়ন বঞ্চিতরা হলেন, শেরপুর জেলা বিএনপির ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমান তারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন, বিএনপি নেতা এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম বাবু ও সিরাজুল ইসলাম মানিক।
দল থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ থাকলেও এখনো কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী ফাহিম চৌধুরীর ছায়াতলে আসেনি। সাম্প্রতিক এই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে তারা-দুলাল-ইলিয়াস-সুফিয়ান এই চার প্রার্থীর কর্মী সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের একাংশ। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের মামলা থেকে জামিন করানোসহ সব ধরনের সাপোর্ট দেওয়ায় দুলাল চৌধুরী বেশ আলোচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ ফয়জুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি। সবশেষ গত ২০ নভেম্বর মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে ইলিয়াস খানের সঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এবিষয়ে ইলিয়াস খান বলেন, “মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে একমাত্র আমাকেই দলের মহাসচিব ডেকেছিল, বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক আসনেই প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, আমি দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছি তাই আশা রাখি।” তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষ অন্যান্য দলকে আমরা দূর্বল ভাবছি না, তবে শেরপুর ২ আসনে বিএনপির বিকল্প নেই। কৌশল খাটালেও অন্যান্য দল বিএনপিকে পেছনে ফেলতে পারবে না।
প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলমান আছে। আমি আশা করি সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আসবো। প্রতিপক্ষ যত চেষ্টাই করুক না কেন শেরপুর ২ আসনে বিএনপির বিকল্প নেই।”
বিএনপির এই অন্তর্কোন্দলকে কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসনটিতে একাধিক দলের প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। অনেকদিন আগে থেকেই একক প্রার্থী নিয়ে গনসংযোগ আর ভোট প্রার্থনা করছে দলটি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে শেরপুর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি’কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই প্রার্থী সব ভেদাভেদ ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে যাচ্ছেন ভোট সংগ্রহে।
গোলাম কিবরিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমি দলের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছি। আমার আসনের প্রত্যেকটি এলাকায় আমি গিয়েছি, হিন্দু , মুসলিম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সব জায়গা থেকেই সমর্থন পেয়েছি।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন কোন্দল তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে সাধারণ জনগন অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত থাকতে চায়, যেহেতু জামায়াতে ইসলামীতে এসব নেই তাই সাধারন জনগণের ভোট আমিই পাবো।
আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরেই গনসংযোগ করে যাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী দলটির নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কায়েস ও আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টির প্রার্থী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ বাদশা। গনঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী হায়াতকে মাঠে দেখা গিয়েছে , জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি থেকে জুলাই আন্দোলনে মুখমণ্ডল হারানো খোকন চন্দ্র বর্মন ও শ্রমিক উইং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম ও বাকী বিল্লাহ নামে আরো একজন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল মাঠে রয়েছে।
আসনটিতে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত আলোচনায় এসেছে। তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের পর এবার নতুন করে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ভোটাররা। যার ফলে যথেষ্ট হিসেবনিকেশ করেই তারা ভোট দিবেন।