“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” কথাগুলো গানে থাকলেও বাস্তবে রূপ দিতে চেষ্টা করেছেন আবু শরীফ কামরুজ্জামান নামে এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। প্রবাসে বসেই শেরপুর জেলায় মানবিক কাজের বৃহৎ নজির স্থাপন করেছেন এই প্রবাসী। অসহায়দের নানাভাবে সহায়তা ও সাবলম্বী করতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মানবিক কাজ বাস্তবায়নে তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছে ‘নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থা’ নামে স্বেচ্ছাসেবামূলক সামাজিক সংগঠন। শেরপুর জেলায় অসংখ্য সামাজিক, মানবিক কাজের ভাগীদার এই সংগঠন।
১৯৮১ সালে শেরপুরের নকলা উপজেলার ৮ নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের চর বসন্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু শরীফ কামরুজ্জামান। পিতা সোহরাব উদ্দিন ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাতা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী। চরবসন্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং হাজী জাল মামুদ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি অ্যাকাউন্টিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং The Institute of Chartered Accountants in Bangladesh ও London College of Accountancy থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন Income Tax Accountant। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় নার্সিং পেশায় যুক্ত হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এই মানবতার ফেরিওয়ালা।
সূত্র জানায়, আবু শরীফ কামরুজ্জামান শেরপুর জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার মাধ্যমে এপর্যন্ত অসহায়দের জন্য ৩০৫টি টিউবওয়েল স্থাপন, ১৭৬টি ঘর নির্মাণ, ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান, একটি সাঁকো নির্মাণ, ১০৩ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা, ১১৩ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান, ১১৫টি অস্বচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, ১২টি পরিবারকে মুদি দোকান প্রদান, ২৫টি পরিবারকে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ও, পাঁচটি অটো এবং একটি ঘোড়া উপহার দিয়েছেন।
এছাড়াও কোভিড-১৯ মহামারির সময় আবু শরীফ কামরুজ্জামান ১,০০০ পরিবারকে টানা দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় তিনি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছেন। সাম্প্রতিক এই প্রবাসী সারা শেরপুর জেলাকে সাজাতে বৃক্ষরোপণের মহাউদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কৃষ্ণচূড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সৌন্দর্যভরা গাছের চারা রোপণ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন তিনি।
আবু শরীফ কামরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ভালো কাজের সকল কৃতিত্ব আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। যাদের দোয়া ও সহযোগিতায় আমাদের সেবামূলক কাজগুলো প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে।