গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে ঈদ উপলক্ষে গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র গুলোয় দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভীড়।
পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তের পাহাড়ের লুকোচুরি দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীর আসেন গারো পাহাড়ে। রোজার কারণে একমাস ফাঁকা ছিলো পাহাড় ঘেরা পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দর্শনার্থী অভাবে ব্যবসা করতে পারেনি পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ঈদে দিন থেকে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রসহ ও মধুটিলা ইকোপার্কে সারা দেশ থেকে ছুটে আসছে দর্শনার্থী। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম ও প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রুফওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবলকার, প্যাডেল বোর্ড, সাম্পান নৌকা, ঝর্ণাধারাসহ আকর্ষণীয় রাইডসগুলো মন কাড়ছে ভ্রমণ পিপাসুদের।
পাশাপাশি বন বিভাগ গড়ে তুলেছে মধুটিলা ইকোপার্ক নামে পর্যটন কেন্দ্র। এখানেও রয়েছে ওয়াচ টাউয়ার, পেডেল বোর্ডসহ বিভিন্ন রাইডস। এছাড়াও শেরপুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন রিসোর্ট ও ক্যাফে। ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত গারো পাহাড় অঞ্চল। আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ভিড় করছেন পর্যটন কেন্দ্রে। বাস, ট্রাক, মিনিবাস, লেগুনা, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে আসতে দেখা যায় তাদের। যানবাহনগুলোর মধ্যে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও লেগুনার সংখ্যাই অনেক বেশি।
আর এসব যানবাহনের জট লেগে আছে গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রের বাইরের ২-৩ কিলোমিটার রাস্তায়। নতুন নতুন রাইডস আর পাহাড়ের সবুজের হাতছানি পেতে ছুটে আসছেন অসংখ্য দর্শনার্থীরা।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর থেকে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘ঈদে বাবা-মার সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। অনেক লোকজন হয়েছে। পেডেল বোর্ডে ওঠলাম অনেক মজা করলাম।’ অপর দিকে মধুটিলা ইকোপার্কে প্রবেশ ফি পূর্বে ছিল ১০ টাকা। এখন আদায় করা হচ্ছে ১০০টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে গোটা গারো পাহাড়। নানা গাছে ফুটেছে বিভিন্ন ধরনের ফুল। আগের বারের চেয়ে এবার নতুন নতুন অনেক রাইডস যুক্ত হয়েছে। খুব ভালো লাগছে এসে। ’জামালপুর থেকে আসা নীরব মিয়া বলেন, ‘ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুদের সঙ্গে কলেজ থেকে ঘুরতে এসেছি। নতুন নতুন অনেক রাইডসে উঠলাম। অনেক কিছু কেনা-কাটাও করলাম। দারুণ লেগেছে শেরপুরের গারো পাহাড়।
’ঢাকা থেকে আসা মারুফা আকতার বলেন, ‘প্রতি বছরই ঈদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই। এবার গজনীতে এসেছি। অনেক ভালো লাগলো গারো পাহাড়।’যেভাবে দর্শনার্থী আসছেন, তা অব্যাহত থাকলে ভাল লাভবান হওয়ার আশা পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, ‘এখন গরম তাই নতুন করে গরমের কাপড় তুলেছি। বেচা-বিক্রি ভালোই হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘শীতে মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু রোজা এসে পড়ায় আবার একমাস বন্ধ ছিল। এখন ঈদের দিন থেকেই পর্যটন আসা শুরু হয়েছে। যদি মাসজুড়ে এমন লোকজন আসে তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব এবং ভাল লাভবান হবো। এবার ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় আমদের জন্য ভালোই হয়েছে।