ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। যার মাঝে শেরপুর ২ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নকলা ও নালিতাবাড়ী দুই উপজেলার ভোটার নিয়ে আসনটি গঠিত। অতীতে এই আসন থেকে যারাই নির্বাচিত হয়েছেন তারাই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সময়ে শেরপুর ২ এর নির্বাচিত সংসদ সদস্য- হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ উপনেতাসহ নানা দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পাহাড়, নদী আর পর্যটন সমৃদ্ধ এই আসনের গুরুত্ব সব দলেই সর্বোচ্চটুকু। তাই এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হিসেব-নিকেশ করতে হয় রাজনৈতিক দলগুলো।
আগামী এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশের মতো শেরপুর ২ আসনেও নিজেদের ঘুছাতে শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় ছোট দলগুলোও নড়াচড়া দিতে শুরু করে দিয়েছে। কৌশল যুদ্ধে চলছে ভোটের লড়াই।
সূত্র জানায়, নতুন-পুরাতন মিলিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮ জন। অপরদিকে একজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছে জামায়াত। এনসিপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দুইজন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন থেকে একজন, এবি পার্টি থেকে একজন, গনঅধিকার পরিষদ থেকে একজন ও খেলাফত মজলিস থেকে একজনকে প্রার্থী হতে দেখা গেছে।
শেষ পর্যন্ত মূল লড়াইটা বিএনপি -জামায়াত হতে পারে বলে ভোটারদের ধারণা। তবে তিন থেকে চারজন প্রার্থী মাঠে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মূহুর্তে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কেউই বিদ্রোহী হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে ভোটের মাঠ নিজেদের দখলে নিতে তৃনমুল পর্যায়ে দৌড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী। থেমে নেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এককভাবে এই আসন ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। আসন্ন নির্বাচনে দলটি মাঠে না থাকায় যোগ-পয়েন্ট তৈরি হয়েছে বাকি দলগুলোর জন্য।
শেরপুর ২ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তিনি সাবেক হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে। ফাহিম চৌধুরী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। পিতা ও নিজের পরিচয়ে ফাহিম চৌধুরী যথেষ্ট জনপ্রিয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমান তারা। তিনি শেরপুর সরকারী কলেজের সাবেক জিএস ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয়। ধানের শীষ নিয়ে লড়তে চান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল চৌধুরী। তিনি জাপান প্রবাসী হলেও বিগত ১৭ বছরে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের নানাভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। এই প্রার্থীও আসনটিতে আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস খান। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় তিনি নিজ অর্থায়নে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জামিন করিয়েছেন। দুই উপজেলায় তার অনেক কর্মীসমর্থক রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান। তরুণ নেতৃত্বের অন্যান্য দৃষ্টান্ত তিনি। তারও অনেক কর্মীসমর্থক ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন। তিনিও তার নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন কিনেছিলেন তিনি। এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম বাবু বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও জনসেবার সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও ছাত্রনেতা সিরাজুল ইসলাম মানিক মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়েছেন বলে প্রচারণা দিয়ে যাচ্ছেন অনেক আগে থেকেই।তিনি দুঃসময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রত্যেক প্রাথীই নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে পালন করছেন নানা কর্মসূচি। তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে শেরপুর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি’কে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। স্বৈরাচারী শাসনমালে একাধিকার কারাবরণ করেছেন গোলাম কিবরিয়া। তরুণ প্রার্থী হিসেবে গোলাম কিবরিয়া ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন। বিগত কয়েক নির্বাচনে এই আসনে দাড়িপাল্লার কোন প্রার্থী না থাকলেও এবার আশার আলো দেখতে শুরু করেছে দলটি। নিজেদের বাক্সে ভোট ফেলতে তৃনমুল পর্যায়ে দিনরাত জনসংযোগ করছেন তারা।
গনঅভুথ্যন পরবর্তীতে ছাত্র জনতার দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে এই আসনে দুই জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শুনা যাচ্ছে। তারা হলেন, শেরপুর জেলা এনসিপির ১ নং যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর কবির মিথুন। তিনি সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। শ্রমিক উইং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিসহ নানা বিষয় নিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এই প্রাথীরা।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কায়েস। তিনি নিয়মিত জনসংযোগ করে ভোটারদের কাছে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আব্দুল্লাহ বাদশা। তিনি জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তৃনমুল পর্যায়ে প্রতিনিয়ত গনসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি।
গনঅধিকার পরিষদ থেকে দলটির জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী হায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মোখলেছুর রহমান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।