ঢলের সাথে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে চেল্লাখালি নদীতে স্রোতের তোড়ে হুমায়ূন (১০) নামের নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে এঘটনা ঘটে।
নিখোঁজের প্রায় ৭ ঘন্টা পর ওই নদীর ৪০০ মিটার ভাটির দিক থেকে রাত সাড়ে আটটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হুমায়ুন বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র এবং বুরুঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেল্লাখালী নদীতে উজানথেকে নেমে আসা ঢলের সাথে লাকড়ি ভেসে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বুরুঙ্গা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার দক্ষিণ পাশে হুমায়ুন ও তার সম বয়সী চাচাতো ভাই আতিক হাসান দুইজনে মিলে বাড়ির পাশের ওই চেল্লাখালী নদীর পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে যায়। লাকড়ি ধরার সময় হঠাৎ নদীর তীব্র স্রোতে দুজনেই ভাটির দিকে ভেসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে চাচাতো ভাই আতিক হাসান সাতার কেটে নদীর তীরে উঠতে পারলেও হুমায়ুন স্রোতের তোড়ে ভাটির দিকে ভেসে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হুমায়ূনকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তার চাচা জাহাঙ্গীর আলম নিখোঁজ হওয়া স্থানের ৪০০ মিটার ভাটিতে হুমায়ূনের মরদেহ ভাসতে দেখেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
হুমায়ুনের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, আমার ছেলে নদীতে ভেসে যাওয়ার পরপরই গ্রামবাসীদের সহযোগীতায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস আফিসে মোবাইলে কল করি। খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীসহ একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। একইসাথে তারা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।