শেরপুরের নকলায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, হামলার চেষ্টা এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় বেলায়েত হোসেন ওরফে বকুল (৬০) এবং তার বড়ভাই দেলুয়ার হোসেনসহ (৬২) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নকলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম জাহাঙ্গীর হোসেন আহমেদ (৫৫)। তিনি নকলা পৌরসভার ইশিবপুর মহল্লার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মরহুম ময়েজ উদ্দিন। দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ বেশ কিছু মিডিয়ায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন জাহাঙ্গীর।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর জানান নকলা পৌরসভার লাভা মহল্লায় তার আপন চাচাতো ভাই বেলায়েত হোসেন গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার জমিজমা ও পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর এর আগেও নকলা থানায় বেলায়েত হোসেন গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নকলা থানায় দাখিল করা লিখিত অভিযোগে জানা যায় ৮ মার্চ রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীসহ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে লাভা মহল্লায় তার ফলের বাগান পরিচর্যা করতে যান। ওইসময় বেলায়েত ও তার বড়ভাই দেলদুয়ারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লোহার শাবল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়।
ওইসময় বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পূর্বে মামলা করার জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলায়েত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেলায়েত ও তার বড়ভাই দেলুয়ারসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাদের হাতে থাকা লোহার শাবল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
ওইসময় স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাক্ষীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিবাদীগণ সুযোগ মত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীকে জীবনের তরে শেষ করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকী দিয়ে ফলের বাগানে ঢুকার পারিবারিক রাস্তাটি বাঁশের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর জানান বিবাদীরা খুবই উশৃঙ্খল প্রকৃতির। তারা আমার বেশ কিছু পৈতৃক জায়গাজমি জবরদখল করে রেখেছে। তারা যে কোনো সময় আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।