জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল। ধানের শীষ প্রতীকের এ প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনটি শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭৭ জন।
ভোট পড়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪টি। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮টি। বাতিল হয়েছে তিন হাজার ৭২৬টি ভোট।
এ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০টি ভোট।
নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বর্জন প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে দুপুরের পর থেকেই জামায়াত প্রার্থী তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে তারা কেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের সিল দিতে বাধ্য করা, বুথ দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও হামলার অভিযোগ তোলেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তার ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে জামায়াত।