শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার উজানের পানি নেমে গেলেও ভাটি অঞ্চলে সারর্বক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। আকস্মিক ঢলের পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে উপজেলা সদর বাজার ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
প্রবল পানির তোড়ে মহারশি নদীর তীরবর্তী কমপক্ষে ১০-১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ১২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মহারশী নদীর পানি ও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ও রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় নদীগলোর পানি এখন কমে গেছে। এদিকে ঝিনাইগাতীর ডাকাবর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে ইসমাইল (১৬) মহারশি নদীর তামাগাঁও এলাকায় লাকড়ি ধরার সময় পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হবার পর ( ১৯ সেপ্টেম্বরশুক্রবার ) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সেতু এলাকায় ভেসে আসা কাঠ ধরতে গিয়ে হুমায়ুন (১০) নামের শিশু চেল্লাখালী নদীতে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় উদ্ধারকাজ চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধর করা হয়েছে।
মৃত. হুমায়ুন বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ও স্থানীয় দুলাল মিয়ার ছেলে। অপরদিকে ব্রক্ষপুত্র নদের পানিও হুহু করে বাড়ছে।
“ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ফরহাদ হেসেন প্রতিনিধি কে জানান, পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রায় ১১৩ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং পাহাড়ি এলাকার অনেক সবজি ক্ষেতে বন্যার পানি উঠেছিল। তবে পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবেনা বলে জানান তিনি।”
“ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল প্রতিনিধি কে বলেন, উজানের পানি রাতেই নেমে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও উদ্ধার টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন বন্যায় মৃত. পরিবারকে কিছু সহযোগীতা করা হয়েছে। আরো সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি। তবে গতরাত থেকে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।”