যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নে কবরস্থানের জমির উপর অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে সেখানে নেশাদ্রব্য পান ও গান-বাজনা,কেরাম খেলা করার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় নায়েরা গ্রামের মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের উপরে অবৈধভাবে কবরস্থানের জমি দখলকারী ইউনিয়নের ফয়জুর মাস্টার ও তার বাহিনী দ্বারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে।
থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়-গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে নায়েরা গ্রামের কবর স্থান সংলগ্ন তেতুলতলায় মুজিবর সরদারের উপর ফয়জুর মাস্টার ও তার ভাই ইজান প্রাথমিক হামলা চালায়। পরবর্তীতে ফয়জুর মাষ্টারের পোষ্য বাহিনী চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র হাতে এগিয়ে এসে মুজিবর সরদারের পরিবারের উপরে অতর্কিত হামলা করে।
উক্ত হামলায় নায়েরা গ্রামের নওশের সরদারের ছেলে মুজিবর রহমান (৫০), তার স্ত্রী মোছা:রমিছা বেগম(২৮), ও ভাইজি মোছা:সোনালী খাতুন (১৬), এবং মোছাঃ মঞ্জুরা খাতুন (৩৮)। আহত ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনের নিকট দ্রুত সন্ত্রাসীদের কে গ্রেফতারের দাবি করেছেন। এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়জুল মাস্টার বলেন, মুজিবর সরদার আমাকে হাতুড়িপেটা করেছে।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন অভিযোগ পাওয়া গেছে_বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য-গত ৩১/০৭/২০২৪ইং সালে কবরস্থানের সর্বমোট ৬৪ শতক জমির মধ্যে দশ শতক জমির মালিক জহির উদ্দিন ও ফয়জুল মাস্টার যোগজোশে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে তানজিলা খাতুনের নামে দলিল করেন। সেখানে ফয়জুর মাষ্টার তার পোষ্য ক্যাডারদের কে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি কালে-উক্ত কবরস্থানের অন্য শরিক দাতারা বাধা প্রদান করিলে সেই সময়েও তাদের/মুজিবরের পরিবারের উপর বেধড়ক হামলা চালায়-ঐ হামলার বিষয়ে একটি মামলা হয় যার নম্বর (জি আর ২৪০/২৪)।
পরবর্তীতে মুজিবর সরদার ভৃমি মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করিলে সেই অভিযোগের কপি ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নিকটে আসে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয়পক্ষকে একটি দিন নির্ধারণ করে সেখানে একটি সিদ্ধান্ত দেন।সেই সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ করেন এবং বলেন রেকর্ডিও শ্রেণির জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।উভয় পক্ষকে রেকর্ডীয় শ্রেণী মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়।
কিন্তু ফয়জুর মাস্টার সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে কবরস্থানের উপরে প্রতিদিন রাতে নেশা দ্রব্য পানসহ গান-বাজনা ও বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ঘটনা ঘটাতে থাকে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের উপর শ্রদ্ধা রেখে মুজিবর সর্দার গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে কবরস্থানের উপর অনৈতিক ঘটনা দেখতে পেয়ে মুজিবর একটি ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
সাথে সাথে তার ছোট ভাইয়ের দোকান নায়েরা বাজারে গিয়ে তার ভাইকে গালিগালাজ করে-পরবর্তী দিন সকাল ৯টার দিকে মুজিবর সর্দার ও তার পরিবারের উপর ফয়জুর মাস্টার এবং তার ভাই ইজান,ফয়জুরের বাহিনী কর্তৃক এই হামলার শিকার হয়।