আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শেরপুর ২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন সরগরম হয়ে উঠছে মাঠ পর্যায়ে। তবে আসনটিতে কার সাথে কে লড়াই করবে এনিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। বিএনপি-জামায়াত মূল লড়াই হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও জামায়াতে জোটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চূড়ান্ত প্রার্থীতা অনিশ্চিত হয়ে আছে উভয় দলে। এমতাবস্থায় সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছেন।
সূত্র জানায়, আসনটি থেকে বিএনপি থেকে ৪ জনসহ , জামায়াত, এনসিপি, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল থেকে ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পরে মনোনয়নপত্র জমা দেন মাত্র ৫ জন।
মনোনয়ন দাখিলকারীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাবিকারী ইলিয়াস খান, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল।
গত ৩ জানুয়ারি এসব প্রার্থীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনকে বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়, দলীয় মনোনয়ন সংযুক্ত না থাকায় বাতিল হয় ইলিয়াস খানের মনোনয়নপত্র, ঋণ খেলাপীর কারণে বাদ পড়েন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল।
বিএনপির প্রার্থীরা বাদ পড়ায় জামায়াতের জন্য ফাকা মাঠ তৈরি হলেও দলটিতে রয়ে গেছে জোটগত দ্বন্দ্ব। ১০ দলীয় ইসলামী জোটে কে হবে এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারো কারো মতে কেন্দ্রীয়ভাবে আবদুল্লাহ আল কায়েস চূড়ান্ত করে এসেছেন। কেউবা বলছেন আসনটিতে গোলাম কিবরিয়া ভিপির বিকল্প নেই। তবে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন গোলাম কিবরিয়া ভিপি। তৃনমুলের বৃহৎ একটা অংশের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। গত এক বছর ধরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন এই প্রার্থী। বিগত দিনে আবদুল্লাহ আল কায়েসও জনসংযোগ করেছেন। এবিষয়ে জানতে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কায়েসকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বলেন, ‘জোটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী থাকা বা না থাকা বিষয়টি নির্ভর করছে আপিল বিভাগের উপর। তবে আমি বিগত দিনে যেভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, এতে করে আমি আশাবাদী বিএনপি প্রার্থী থাকুক বা না থাকুক নকলা-নালিতাবাড়ীবাসী আমাকেই বেছে নিবে।’
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরিয়ে আনার আশা করছেন এই প্রার্থী।
ফাহিম চৌধুরী সমর্থক নেতাকর্মীরা জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর করা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন খুব দ্রুত গৃহীত হবে এবং আপিলের মাধ্যমে তার প্রার্থীতা বহাল থাকবে।
এদিকে ইলিয়াস খান সমর্থক নেতাকর্মীরা জানান, এত কম সময়ে ফাহিম চৌধুরীর নাগরিকত্ব বাতিলের কপি সংগ্রহ কঠিন। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী ধরে রাখতে দল ইলিয়াস খানকে মনোনয়ন দিবে এবং আপিলে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পাবেন। তবে মতামত জানতে ইলিয়াস খানকে ফোন দিলে রিসিভ করেননি তিনি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপিল করবো। আশা করি ন্যায়বিচার পাব। বিএনপি একটি বৃহৎ দল এখানে ছোটখাটো মতভেদ থাকবেই, তবে কোন দ্বন্দ্ব নেই। সবাইকে মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৮ জন, সংগ্রহ করেন ৪ জন, দাখিল করেন ২ জন। পরে দুজনের প্রার্থীতাই বাতিল হয়ে যায়। আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকলেও দলটিতে রয়ে গেছে অন্তর্কোন্দল। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে কেউ ফাহিম চৌধুরী বা কেউবা ইলিয়াস খান শেষ পর্যন্ত থাকবে বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এধরনের প্রচারণা দলটির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপিলের মাধ্যমে এই দুই প্রার্থী থেকে কেউ না টিকলে আসনটি বিএনপি শূন্য হয়ে যাবে। বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকলে লড়াই হতে পারে জামায়াত – ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু ইসলামী জোটের কারনে দুই দল থেকে একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন ইসলামী জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী।