শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নগদ অর্থ ও কসমেটিকের লোভে ফেলে নয় বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইসলাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক ফেরিওয়ালাকে আটক করে পুলিশে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকৃত ইসলাম উদ্দিন দক্ষিণ ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে কসমেটিক বিক্রি করে। ইসলাম পলাশীকুড়া গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে। ধর্ষিত ভিকটিম স্থানীয় একটি একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
ভিকটিমের স্বজনরা জানান, অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিন গত দুই বছর আগে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে এসে ভ্যানগাড়ীতে ফেরি করে বিভিন্ন এলাকায় কসমেটিকসের ব্যবসা করে সংসার চালায়। তার স্ত্রী না থাকায় বাড়িতে সে একাই বসবাস করে। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়েও ঢাকায় থাকে। সোমবার সকাল নয়টার দিকে ভিকটিম কসমেটিকস ক্রয় করতে ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে যায়। তখন ইসলাম উদ্দিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কসমেটিকস ও নগদ অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।
সকাল দশটার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা ভিকটিম বাড়িতে গেলে পেট ব্যাথা ও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে স্থানীয় র্ফামেসী থেকে ঔষধ ক্রয় করে খাওয়ানো হলে কোন উন্নতি না হওয়ায় রাত আটটার দিকে স্বজনেরা দ্রুত শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর নিশ্চিত হন যে ভিকটিমকে ধর্ষণ করার ফলে এমন রক্তপাত হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে ডাক্তাররা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। বর্তমানে ভিকটিম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অপরদিকে, ভিকটিম তার মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ খুলে বললে ধর্ষণে অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের নাম প্রকাশ পায়। এই ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইসলাম উদ্দিনকে আটক করে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মিজানুর রহমান মিজান সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমের মা থানায় এসে বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।