আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন। জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকে প্রচারণাসহ নানাভাবে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। আসনটিতে ইসলামিক তিন দলের প্রার্থীর বিপরীতে একক লড়াইয়ে নেমেছে বিএনপি।
শেরপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, জামায়াত মনোনীত শেরপুর জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত নালিতাবাড়ী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল কায়েস এবং এবি পার্টি মনোনীত শেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ বাদশা।
অংশগ্রহনকারী চার প্রার্থীর মাঝে ফাহিম চৌধুরী ব্যতীত বাকি তিনজনই নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। এই দিক থেকে নকলা উপজেলায় ফাহিম চৌধুরী এককভাবে এগিয়ে থাকবেন। কিন্তু তিন যুগেরও অধিক সময় ধরে নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে কোন এমপি নির্বাচিত হন না। এইদিক থেকে নালিতাবাড়ীর প্রার্থীদেরও জোর রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-২ আসন নকলা ও নালিতাবাড়ী দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। নকলা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৯৮৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৯১৩ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এ আসনে ১৫৩টি স্থায়ী ও ১টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১৫৪টি কেন্দ্র এবং ৭৫৯টি স্থায়ী ও ৬১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষসহ মোট ৮২০টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, টানা তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের পর ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাবেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ দল মাঠে না থাকায় সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ছোট ছোট দলগুলো। নিজ অঞ্চলের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিবেন ভোটাররা। আসনটিতে চার প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে।
শেরপুর ২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ব্যপক আলোচিত ও জনপ্রিয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছেন তিনি। সেসময় শুরুর দিকে ফাহিম চৌধুরীর প্রচুর সমর্থন থাকলেও আওয়ামী লীগের সেই প্রহসনমূলক নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করতে হয়েছে তাকে। ফাহিম চৌধুরীর বাবা বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহেদ আলী চৌধুরী এই আসনে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নকলা-নালিতাবাড়ী’র তৃনমুল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর তিনি নিজে নিতেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত হয়েছিলেন। ফাহিম চৌধুরী এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তার কর্মী ও সমর্থকেরা বিজয়ের ব্যপারে শতভাগ আশা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিআরডিবি ‘র চেয়ারম্যান এমএ রায়হান বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী সাহেবকে নিয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী। আমরা ভোটারদের কাছে কাছে তারেক রহমানের বার্তা নিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিভিন্নভাবে ভোট প্রার্থনা করতেছি, আশা করি জয় নিয়েই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বয়সের দিক দিয়ে কনিষ্ঠ হলেও ভোটারদের মাঝে পর্যাপ্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন। প্রায় এক বছর ধরে নকলা-নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে গিয়েছেন তিনি। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন তিনি। তরুণদের মাঝে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে পেরেছেন গোলাম কিবরিয়া ভিপি। তার দলীয় নেতৃবৃন্দসহ কর্মী -সমর্থকেরা জয়ের ব্যপারে সর্বাধিক আশাবাদী।
নকলা উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে গিয়ে ভোট চেয়েছি। আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ নকলা-নালিতাবাড়ী গড়ার প্রত্যয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা সর্বোচ্চ আশাবাদী ভোটাররা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লাকেই বেছে নিবে। আগামী ১২ তারিখ গোলাম কিবরিয়া ভিপির বিজয় হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস অনেকদিন ধরেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনিও হাত পাখার বিজয় ছিনিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি মনোনীত আবদুল্লাহ বাদশা প্রতিনিয়তই জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি অনেক পরিচিত। ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে তিনিও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজ অবস্থান থেকে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বলেন, ”এই আসনের কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার নিয়ে আমি মাঠে নেমেছি। আমি যেভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এতে করে আমি আশাবাদী নকলা-নালিতাবাড়ীবাসী আমাকেই বেছে নিবে ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করবো। বেকার ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ ও আদিবাসীদের উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। আমার বাবা যেভাবে নকলা-নালিতাবাড়ীর মানুষের সেবা করেছেন আমিও সেই দ্বারা অব্যহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।”