পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সেকান্দার আলী তালুকদার। নিজের জমি দান করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান স্মরণ করা হয়েছে একুশে পাঠচক্রের নিয়মিত আসরে।
‘জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে পাঠ’ স্লোগান সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সেঁজুতি অঙ্গনে একুশে পাঠচক্রের ১৫৫তম আসর অনুষ্ঠিত হয়। ‘পাহাড়ি জনপদের কিংবদন্তি আলোর ফেরিওয়ালা সেকান্দার আলী তালুকদার’ শিরোনামে আয়োজিত এ আসরে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক ও ছোট কাগজ কণ্ঠস্বর-এর প্রধান সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত শ্যামল।
সংস্কৃতিকর্মী মানিক সাহার সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী সুধাংশু কালোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান এবং সেকান্দার আলী তালুকদারের কনিষ্ঠ ছেলে সাদরুল আহসান মাসুম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সেকান্দার আলী তালুকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষে রেলওয়েতে চাকরি পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে এলাকার মানুষের শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। নিজের জমি দান করে প্রতিষ্ঠা করেন প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তারাগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়। তিনি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, তার জ্যেষ্ঠ ছেলে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শহীদ নাজমুল আহসানের নামে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল রয়েছে। সেকান্দার আলী তালুকদারের মতো শিক্ষানুরাগী মানুষের অবদানেই পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি জনপদের মানুষ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী আমিনুল ইসলাম, শিক্ষক মনি গাঙ্গুলি, শঙ্করী পাঠক, শারমিন আক্তার, তাসমেরী, অমিত চক্রবর্তী, পূজা সরকার, সেতু আচার্য, সুজাতা প্রমুখ।
আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে শিশু শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি করে।